হাঁসের গুরুত্বপুর্ণ রোগ, লক্ষণ ও করনীয়

হাঁসের রোগ ব্যাধি মুরগির থেকে কম। তুলনামূলকভাবে হাঁস রোগ সহনশীল হলেও কিছু কিছু রোগ হাঁসের খামারের অনেক বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে। তাই হাঁসের খামার থেকে লাভ করতে হলে হাঁসের রোগ ব্যাধি সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

হাঁসের রোগ সমুহকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমন জনিত রোগ, ভাইরাস জনিত রোগ, পরজীবি জনিত রোগ (প্রটোজোয়া জনিত রোগ, কৃমি জনিত রোগ, আঠালি ও উকুনের আক্রমন ইত্যাদি), অপুষ্টি জনিত রোগ, বংশগত রোগ ইত্যাদি।

নিম্নে কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ হাঁসের রোগ সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো –

ডাক প্লেগ বা ডাক ভাইরাল এন্টারাইটিস

Duck plague / Duck Vairal enteritis

ডাক প্লেগ রোগ হারপেস (Herpes) গ্রুপের এক প্রকার ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হাঁসের একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। ১৯২৩ সালে সর্ব প্রথম এ রোগ নেদারল্যান্ডে সনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ফ্রান্স, জার্মানী, আমেরিকা, ভারত, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর আরো বহু দেশে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

ডাক প্লেগ রোগের লক্ষণ

হাঁসের প্লেগ রোগে প্রধানতঃ ৮টি লক্ষণসহ আরও কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে, নিম্নোক্ত ৮টি লক্ষণ বিবেচনায় নিলে সহজে ডাক প্লেগ সনাক্ত করতে সুবিধা হয়-

  • হাঁস দাঁড়াতে পারে না। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটার চেষ্টা করে।
  • পা অবশ হয়ে যায়, সাঁতার কাটতে পারে না।
  • খাওয়া দাওয়া কমে যায়, কিন্তু পানির পিপাশা বাড়ে।
  • হাঁস পাখার উপর ভর করে ঝিমায়, পালক এলোমেলো থাকে।
  • চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে।
  • পাতলা পায়খানা হয়। পায়খানা অনেক সময় সবুজ ও হলুদ রঙের হতে পারে।
  • রোগের প্রকোপ বেশি হলে পুরুষ হাঁসের প্রজনন অঙ্গ বেরিয়ে আসে।
  • ময়না তদন্তে হাঁসের হৃৎপিন্ড, কলিজা এবং ডিম্ব থলিতে জমাটবাঁধা রক্ত দেখা যায়।

ডাক প্লেগ রোগের চিকিৎসা

এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। তাই এর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। রেজিষ্টার্ড ভেটেরিনারিয়ান দ্বারা রোগের লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হয়।

ডাক প্লেগ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

এ রোগের টিকা পাওয়া যায়। ৩ সপ্তাহ বয়সের হাঁসের বাচ্চাকে ১ম ডোজ এবং ৫-৬ সপ্তাহ বয়সে বুস্টার ডোজ টিকা দিতে হয়। ডাক প্লেগ টিকা দিলে ৬ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় থাকে। তাই পরবর্তীতে ৬ মাস অন্তর অন্তর এ রোগের টিকা দিতে হয়।

হাঁসের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা

হাঁসের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণ

এটি ভাইরাস জনিত মারাত্মক একটি জুনোটিক রোগ (Zoonotic Disease)। এটি পাখি থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। মানুষে সংক্রমন হলে একে বার্ড ফ্লু (Bird Flu) বলে। আমাদের দেশে হাই প্যাথোজেনিক ও লো প্যাথোজেনিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। হাঁসে এ রোগ সাধারণত কোন লক্ষণ প।রকাশ করে না। তবে হাই প্যাথোজেনিক ভাইরাস সংক্রমনে খামারের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়।

হাঁসের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণ

  • সাধারণতঃ কোন লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যেতে পারে।
  • মৃত্যুর হার ১০০% পর্যন্ত হতে পারে তবে সাধারণতঃ ৬০-৮০ হয়ে থাকে।
  • মাথা মুখ ফুলে যেতে পারে। পায়ের লোমহীন অংশে রক্ত জমাট বেধে কালো হয়ে যেতে পারে।
  • রোগের লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও হাঁস এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের বাহক হিসাবে কাজ করে।

হাঁসের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের চিকিৎসা ও করনীয়

 এই রোগের চিকিৎসা করার সুযোগ নাই। লক্ষণ দেখা বা বুঝা গেলে অথবা সন্দেহজনক ক্ষেত্রে সরকারি ভেটেরিনারিয়ানের সাথে যোগাযোগ করে ভাইরাস সনাক্তের জন্য রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে নমুনা প্রেরণ করতে হবে।  এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা  ভাইরাস সনাক্ত হলে সাথে সাথে খামারে স্টাম্পিং আউট (সকল হাঁস বিনষ্ট) করে সঠিকভাবে ডিসিনফেকশন ই ডিকন্টামিনেশন করতে হবে।

হাঁসের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের প্রতিরোধ

  • টিকা প্রদানই এই রোগের একমাত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
  • তবে, টিকা প্রদানের পাশাপাশি খামারের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও জীব-নিরাপত্তা অতীব জরুরী।

হাঁসের ব্রুডার নিউমোনিয়া রোগ

এটি একটি ফাঙ্গাস বা ছত্রাক জনিত সংক্রামক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হাঁসের ফুসফুসে ফাঙ্গাল গ্রোথ দেখা যায়। এতে হাঁসের শ্বাসকষ্ট হয় এবং বাচ্চা মৃত্যু হার বেড়ে যায়। সাধারণতঃ লিটার হিসাবে ধানের তুষ বা কাঠের গুড়া ছত্রাক আক্রান্ত থাকলে, খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এবং ব্রুডিং ষঠিক পন্থায় না হলে এই রোগ হয়ে থাকে। বাচ্চা হাঁসের বিশেষ করে ব্রুডিং-এর সময় শ্বাস তন্ত্রে এই রোগ হয়ে থাকে বলে একে ব্রুডার নিউমোনিয়া বলে।

হাঁসের ব্রুডার নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ

  • সাধারনতঃ কোন লক্ষণ প্রকাশের আগেই বাচ্চা মারা যায়।
  • বাচ্চা হাঁস একত্রে জড়ো হয়ে থাকে।
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যেতে পারে।
  • বাচ্চা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্য়েই মারা ধায়।

হাঁসের ব্রুডার নিউমোনিয়া রোগের চিকিৎসা

যেহেতু এ রোগে লক্ষণ আগেই হাঁসের বাচ্চা মারা যায়, তাই চিকিৎসা প্রদানের সময় পাওয়া যায় না। লক্ষণ প্রকাশ পেলে পানিতে তুতে দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে অবশ্যই থেটেরিনারিয়ানের ব্যবস্থা মোতাবেক চিকিৎসা করতে হবে।

হাঁসের ব্রুডার নিউমোনিয়া রোগের প্রতিরোধ

  • একবারে প্রয়োজনীয় পরিমানের অধিক দানাদার খাদ্য প্রদান করা যাবে না।
  • শুষ্ক ও আলোযুক্ত স্থানে খাবার সংরক্ষণ করতে হবে।
  • খামারে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • লিটার হিসাবে ব্যবহারের জন্য ধানের তুষ বা কাঠের গুড়া ছত্রাকমুক্ত হতে হবে।

ডাক কলেরা বা হাঁসের কলেরা রোগ

হাঁসের কলেরা একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রামক সেপটিসেমিক রোগ। পাসটুরেলা মালটোসিডা টাইপ-এ (Pasteurella multocida type-A) জীবানু দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

ডাক কলেরা রোগের লক্ষণ

  • সবুজ বা হলুদ রঙের ডায়রিয়া দেখা যায়।
  • সকল বযসের হাঁস এই রোগে আক্রান্ত হয়।
  • অধিক মৃত্যু হার।

ডাক কলেরা রোগের চিকিৎসা

  • যেহেতু ডাক কলেরা একটি ব্যাকটেরিয়াল রোগ, এন্টিবায়োটিক দ্বারা এ রোগের চিকিৎসা করা যায়। তবে, অবশ্যই ভেটেরিনারিয়ান দ্বারা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করাতে হবে।

ডাক কলেরা রোগ প্রতিরোধ

  • প্রয়োজনের অতিরিক্ত দানাদার খাদ্য সরবরাহ না করা।
  • শুষ্ক ও আলোযুক্ত স্থানে খাদ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
  • খামারে হাঁসের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, জীব-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • সময় মত ডাক কলেরা টিকা প্রয়োগ করা।

ডাক সেপ্টিসেমিয়া / এনাটিপেস্টিপার / নিউ ডাক ডিজিস

এটি হাঁসের একটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমন জনিত সেপটিসেমিক রোগ। পাসটুরেলা এনাটিপেস্টিপার জীবানু সংক্রমনে এ রোগ হয়।

ডাক সেপ্টিসেমিয়া রোগের লক্ষণ

  • আর্থ্রাইটিস, ডায়েরিয়া, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ও স্নায়বিক বৈকল্য দেখা যায়।
  • মৃত হাঁসের ফুসফসে জমাট রক্ত, স্ফীতাকার যকৃত, স্প্লিনোমেগালি (প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া) দেখা যায়।
  • আক্রান্ত হাঁসে মৃত্যু হার অধিক।

ডাক সেপ্টিসেমিয়া রোগের চিকিৎসা

  • যেহেতু ডাক সেপটিসেমিয়া একটি ব্যাকটেরিয়াল রোগ, এন্টিবায়োটিক দ্বারা এ রোগের চিকিৎসা করা যায়। তবে, অবশ্যই ভেটেরিনারিয়ান দ্বারা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করাতে হবে।

ডাক সেপ্টিসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ

  • প্রয়োজনের অতিরিক্ত দানাদার খাদ্য সরবরাহ না করা।
  • শুষ্ক ও আলোযুক্ত স্থানে খাদ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
  • খামারে হাঁসের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, জীব-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ডাক ভাইরাল হেপাটাইটিস

এতি একটি ভাইরাস সংক্রমন জনিত রোগ। পিকরনা ভাইরাস সংক্রমনের ফলে এ রোগ হয়ে থাকে।

ডাক ভাইরাল হেপাটাইটিস রোগের লক্ষণ

সবুজ পায়খানা, চোখ বন্ধ করে রাখা, বসে থাকা ও স্নায়বিক বৈকল্য ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।

এ রোগে মৃত্যু হার অধিক।

ডাক ভাইরাল হেপাটাইটিস রোগের চিকিৎসা

  • এ রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। রোগের লক্ষণ দেখে সিম্পটোমেটিক চিকিৎসা দেয়া যায়। তবে, অবশ্যই ভেটেরিনারিয়ান দ্বারা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করাতে হবে।

ডাক ভাইরাল হেপাটাইটিস রোগ প্রতিরোধ

  • খামারে জীব-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
  • নিয়মিত টিকা প্রদান করতে হবে। ৩-১১ সপ্তাহ বয়সে প্রথম টিকা এবং ৪ সপ্তাহ পর বুস্টার ডোজ টিকা দিতে হয়।

হাঁসের মাইকোটক্সিকোসিস

হাঁসের খাদ্যে ফাঙ্গাস জন্মালে ফাঙ্গাস থেকে টক্সিন তৈরি হতে পারে। টক্সিন যুক্ত খাবার খাওয়ালে হাঁসে মাইকোটক্সিকোসিস হতে পারে। এ রোগে হাঁসের মৃত্যুহার বাড়তে পারে। মৃত হাঁসের যকৃত ভঙ্গুর হয়, পাকস্থলীতে রক্ত দেখা দিতে পারে। এ রোগে এন্টিটক্সিন, টক্সিন বাইন্ডার দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।

হাঁসের বটুলিজম

এটি ক্লোস্ট্রিডিয়াম টক্সিন জনিত একটি রোগ। খাদ্য সংরক্ষণ সঠিক না হলে খাদ্যের প্রোটিন জাতীয় অংশে এ্যানএ্যারোবিক কন্ডিশনে (বায়ুহীন অবস্থায়) ক্লোস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামক ব্যাকটেতিয়া বটুলিনাম নামক টক্সিন তৈরি করে। এই টক্সিন হাঁসের মৃত্যু ঘটায়। সাধারণতঃ চিটাগুড় ও পর্যাপ্ত পরিমান স্যালাইন সরবরাহের মাধ্যমে ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

হাঁসের কৃমিজনিত সমস্যা

হাঁসের কৃমিজনিত রোগ প্রাযশই দেখা যায়। সাধারণতঃ গোলকৃমি (এসকারিয়াসিস), গেপ ওয়ার্ম, টেপ ওয়ার্ম বা ফিতা কৃমি জাতীয় কৃমি সলক্রমন দেখা যেতে পারে। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ৩৫-৪০ দিন পরপর কৃমিনাশক প্রদান করতে হয়।

হাঁসের রোগ প্রতিরোগ ব্যবস্থাপনা

খামারে হাঁসের  রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরী। কেননা, একদিকে রোগের চিকিৎসা যেমন ব্যয়বহুল , কোন কোন রোগের চিকিৎসা নেই, চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের নিরাময় হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় কাঙ্খিত উৎপাদনশীলতা কমে যায়। এছাড়া, রোগের কারণে মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে। সকল রোগের টিকাও পাওয়া যায় না।

যে সমস্ত রোগের টিকা পাওয়া যায় সে সকল রোগের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে টিকা প্রদান করা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে লাভজনক ও টেকসই বানিজ্যিক খামার করা সম্ভব।

হাঁসের টিকা প্রদান কার্যক্রম নিচের ছকে প্রদান করা হলো-

দিনটিকা
২১ – ২৮ দিনডাক প্লেগ
৩৫ – ৪২ দিনডাক প্লেগ (বুস্টার ডোজ)
তারপর থেকে প্রতি ৬ মাস পর পর ডাক প্লেগ রোগের টিকা প্রদান করতে হয়।
৪৫ – ৬০ দিনডাক কলেরা
১৪ দিন পরডাক কলেরা (বুস্টার ডোজ)
তারপর থেকে প্রতি ৬ মাস পর পর ডাক কলেরা রোগের টিকা প্রদান করতে হয়।

 

হাঁসের খামারে অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়

  • হাঁসের খামারে সপ্তাহে ২ বেলা বি ভিটামিন, ২ বেলা ভিটামিন এডিই প্রদান করতে হয়।
  • প্রতি ৩৫ – ৪০ দিন পর পর কৃমিনাশক প্রদান করতে হয়।

হাঁসের খামারে জীব-নিরাপত্তা

যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করলে খামারে অনাকাঙ্খিত জীবানু সংক্রমন প্রতিহত করা যায়, জীব-নিরাপ্ত্তা বলতে সেই সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে বুঝায়। হাঁসের খামারে জীব-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিম্ন লিখেত ব্যবস্থাসমুহ গ্রহণ করা দরকার –

  • হাঁসের সংখ্যানুপাতে পর্যাপ্ত জায়গা সম্বলিত বাসস্থান তৈরি করতে হয়।
  • বাসস্থান শুষ্ক ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত স্থানে তৈরি করতে হয়।
  • খামার বন্য প্রানী বা অন্যান্য আক্রমনকারী প্রানীর প্রবেশ তেকে সুরক্ষিত রাখতে হয়।
  • খামারে অনুপ্রবেশ সংরক্ষিত হতে হয়।
  • খামারের খাবার পাত্র, পানির পাত্র প্রতিদিন পরিস্কার করতে হয়।
  • খামারের প্রবেশমুখে জীবানুনাশক ফুটবাথের ব্যবস্থা থাকতে হয়।
  • খামারে কোয়ারেনটাইনের ব্যবস্থা থাকতে হয়।
  • সঠিক সময়ে বিভিন্ন রোগের টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হয়।
  • অসুস্থ হাঁস আলাদা রেথে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হয়।
  • রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ান ব্যতীত অন্য কারো প্ররোচনায় বা নিজে খামারে ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না।
  • মৃত হাঁস ডিসপোজাল ও ডিসইনফেকশনের সঠিক ব্যবস্থা থাকতে হয়।
  • খামারের অভ্যন্তরে পোস্ট মর্টেম করা যাবে না।
  • খামারের খাদ্য গুদাম আধুনিক হতে হয়।
  • খামারের বর্জ ব্যবস্থা সঠিক হতে হয়।
  • বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন খামারের বর্জ ব্যবস্থাপনা ও জীব-নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং জ্বালানী খরচ সাশ্রয় ও জৈব সার উৎপাদনসহ পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
  • অল ইন ও অল আউট পদ্ধতিতে হাঁস পালন করতে হবে।
  • বিভিন্ন বয়সের হাঁস এক সাথে পালন করা যাবে না।
হাঁসের রোগ

হাঁসের রোগ ব্যধি