ভেড়ার রোগ ব্যবস্থাপনা

ভেড়া প্রাকৃতিকভাবে সহজেই প্রতিকূল পরিবেশে খাপ খাওয়াইয়া নিতে পারে। তাছাড়া ভেরার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে অধিক। এতদসত্ত্বেও ভেড়া প্রতিপালনে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো রোগ—ব্যাধি। রোগ ব্যবস্থাপনা জানতে হলে আগে সুস্থ ভেড়া চেনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সুস্থ ভেড়া চেনার উপায়

  •  চোখ, মুখ, নাক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হবে।
  • লোম ও চামড়া মসৃন ও পরিষ্কার থাকবে।
  • মুখের উপরে মাজেলে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা যাবে।
  • ঠিকমত জাবর কাটবে, চলাফেরা স্বাভাবিক হবে এবং খাদ্যের প্রতি আগ্রহ থাকবে।
  • দলভূক্ত হয়ে মাঠে চড়বে এবং চলাচল করবে।
  • শ্বাস—প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
  • শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে
  • অচেনা লোক কাছে আসলে সচেতন হবে।

উপরে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের ব্যত্যয় ঘটলেই একটি ভেড়াকে অসুস্থ হিসাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক ভেড়াকে সুস্থ করে তোলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভেড়ার রোগ ব্যবস্থাপনার জন্য সঠিক জীব নিরাপত্তা (বায়োসিকিউরিটি) নিশ্চিতকরণ, রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনী টিকা প্রদান এবং রোগ হলে সঠিক চিকিৎসা প্রদান অন্যতম অনুসঙ্গ।

ভেড়ার খামারের জীব—নিরাপত্তা (Biosecurity in Sheep Farm)

যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কাঙ্খিত জীবে অনাকাঙ্খিত জীবানুর সংক্রমন প্রতিহত করা যায়, জীব—নিরাপত্তা বলতে সেই সকল কার্যক্রম গ্রহণকে বুঝায়। ভেড়ার রোগ নিয়ন্ত্রণে খামারে জীব নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে যেসকল কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন তা হলোঃ

       ভেড়ার সংখ্যা অনুপাতে পযার্প্ত জায়গাসহ বাসস্থান তৈরী করতে হবে। বাসস্থান শুকনো এবং আলো—বাতাসযুক্ত স্থানে তৈরী করতে হবে।

       ভেড়ার খামার বন্য প্রাণি বা অন্যান্য আক্রমনকারী প্রাণির হাত হতে সুরক্ষিত হতে হবে।

       খামারে অনুপ্রবেশ সংরক্ষিত হতে হবে।

       খামারের খাবার পাত্র, পানির পাত্র প্রতিদিন পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

       খামারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বায়োগ্যাস প্লান্ট খামারের জীব—নিরাপত্তা উন্নয়নে এবং জ¦ালানী সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে।

       ভেড়াকে সঠিক সময়ে বিভিন্ন রোগের টিকা প্রদান করতে হবে।

        ভেড়ার রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত ভেড়াকে কোয়ারেনটাইন কক্ষে আলাদা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

       কোন ভেড়ার মৃত্যু হলে তার সঠিক ডিসপোজাল ও ডিসইনফেকশন নিশ্চিত করতে হবে।

       নতুন ভেড়া খামারে সংযোজন করার ক্ষেত্রে ইহাকে কোয়ারেনটাইন করে প্রয়োজনীয় টিকা প্রদান করে অন্য ভেড়ার সাথে মিশতে দিতে হবে।

 

ভেড়ার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায় টিকা প্রদান

ভড়ার খামারে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরী। কেননা, রোগ চিকিৎসা ব্যয়বহুল, কোন কোন রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নেই, চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিরাময় হওয়া সত্বেও অনেক সময় কাঙ্খিত উৎপাদনশীলতা অব্যাহত রাখা কঠিন। তাছাড়া, রোগের কারণে মৃত্যু ঝুকি রয়েছে। ভেড়ার সকল রোগের টিকা পাওয়া যায় না। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোগসমূহের (যে সকল রোগের মৃত্যু ঝুকি বেশী) টিকা পাওয়া যায়। এসকল রোগের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে টিকা প্রদান করা গেলে ভেড়ার মৃত্যুঝুকি রয়েছে এমন রোগ নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে লাভজনক ও টেকসই ভেড়ার বাণিজ্যিক খামার করা সম্ভব। ভেড়ার টিকা প্রদান কার্যক্রম ছকে প্রদান করা হলোঃ

রোগের নাম

টিকা প্রদান ব্যবস্থা

ক্ষুরা রোগ

১ম ডোজ (ট্রাইভ্যালেন্ট) ৩ মাস বয়সে, বুস্টার ডোজ (ট্রাইভ্যালেন্ট) ৯ মাস বয়সে। ক্ষুরা রোগের টিকা প্রতি ৬ মাস পর পর প্রদান করতে হবে।

যেহেতু খামারের সকল ভেড়ার বয়স এক নয়, সে কারণে টিকা প্রদানের কর্মসূচি এক মাস পর্যন্ত আগ—পিছ করা যাবে।

পিপিআর

৪ মাস বয়সে

পক্স

৫ মাস বয়সে

একথাইমা

একথাইমা রোগের টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ৩য় দিনে এবং ১০—১৪ তম দিনে পুনরায় টিকা প্রদান করা যেতে পারে।

এন্টারোটক্সিমিয়া

এন্টারোটক্সিমিয়া রোগের টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ৬ মাস বয়সে টিকা প্রদান করা যেতে পারে।

 

 

ভেড়ার রোগ ও তার প্রতিকার

ভেড়া তুলনামূলকভাবে রোগ সহনশীল হলেও কিছু কিছু রোগ খামরের ক্ষতি সাধন করতে পারে। রোগ সমূহকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমন জনিত রোগ, ভাইরাস জনিত রোগ, পরজীবী জনিত রোগ (প্রটোজোয়া জনিত রোগ, কৃমি জনিত রোগ, উকুন—আঠালির আক্রমণ), অপুষ্টি জনিত রোগ, বংশগত রোগ ইত্যাদি।

ভেড়ার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন জনিত রোগ

ভেড়ার এনথ্রাক্স (Anthrax in Sheep)

এনথ্রাক্স হলো Bacillus anthracis (ব্যাসিলাস এনথ্রাসিস) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন জনিত রোগ। এ রোগের ব্যকটেরিয়া স্পোর আকারে মাটিতে থাকে। তাছাড়া চারণভূমিতে কোন আক্রান্ত ভেড়া বা অন্য প্রাণি বিচরণকালে মৃত্যুবরণ করলে তার সঠিকভাবে ডিসপোজাল না করলে মাটিতে এবং ঘাসে এ রোগের স্পোর এর পরিমান বেড়ে যায় যা পরবতীর্তে অন্য ভেড়া ভক্ষণ করলে এই স্পোর ভেড়াতে রোগ তৈরী করতে পারে।

রোগের লক্ষণঃ

  সাধারণত কোন লক্ষণ প্রকাশের আগেই ভেড়া মরে যেতে পারে।

  ভেড়ার গায়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ১০৫—১০৬ ডিগ্রী ফারেণহাইট পর্যন্ত হতে পারে।

  মৃত্যুর পর নাক, মুখ, পায়খানা ও প্রস্রাব রাস্তা দিয়ে কালো জমাটবিহীন রক্ত মিশ্রিত মিউকাস নির্গত হতে পারে।

  আক্রান্ত পশুর শ্বাস—প্রশ্বাসের হার বেড়ে যেতে পারে। অন্য ভেড়া থেকে আলাদা হয়ে ঝিমাতে থাকে এবং হঠাৎ মারা যেতে পারে। কোন কোন সময় হঠাৎ লাফিয়ে উঠে মাটিতে পড়ে খিচুনি দিয়ে মারা যায়।

চিকিৎসাঃ

  যেহেতু এ রোগে লক্ষণ প্রকাশের আগেই হঠাৎ মারা যায়, সেহেতু এ রোগের চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ কম। তবে লক্ষণ বুঝা গেলে ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধঃ

  টিকা প্রদানই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র পথ।

 

ভেড়ার এন্টারোটক্সিমিয়া (Enterotoxemia in Sheep)

এ রোগ ক্লোসট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন্স টাইপ—ডি জাতীয় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমন জনিত রোগ। এরোগে আক্রান্ত ভেড়ার কিডনী নরম, থল থলে ও ফুলে যায়। ভেড়াকে অধিক পরিমানে দানাদার খাদ্য প্রদান করলে ক্ষুদ্রান্তে বিদ্যমান এ সকল জীবানু অতিদ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে এবং একধরনের টক্সিন তৈরী করে যার প্রভাবে ভেড়া লক্ষন প্রকাশের আগেই মারা যায়।

রোগের লক্ষণঃ

  সাধারণত কোন লক্ষণ প্রকাশের আগেই ভেড়া মারা যেতে পারে।

  ভেড়ার পেটে প্রচন্ড ব্যাথা হয় ফলে ভেড়া মাটিতে শুয়ে পা ছড়াছড়ি করে, গায়ের তাপমাত্রা কমে যায়।

  আক্রান্ত পশুর শ্বাস—প্রশ্বাসের হার বেড়ে যেতে পারে। পাতলা পায়খানা হয়। দুর্বল হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়।

চিকিৎসাঃ

  যেহেতু এ রোগে লক্ষণ প্রকাশের আগেই হঠাৎ মারা যায়, সেহেতু এ রোগের চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ কম। তবে লক্ষণ বুঝা গেলে ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধঃ

  • প্রয়োজনীয় পরিমানের অধিক দানাদার খাদ্য সরবরাহ না করা।
  • বিশেষত স্বাস্থ্যবান ভেড়াকে পরিমিত দানাদার খাদ্য সরবরাহ করা।
  • খামারে হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
  • জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

ভেড়ার স্ট্রাক, ব্ল্যাক এবং ব্রাক্সি

স্ট্রাক, ব্ল্যাক এবং ব্রাক্সি ক্লোসট্রিডিয়াল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন জনিত ভেড়ার রোগ। ক্লোসট্রিডিয়াম পারফ্রিনজিন্স টাইপ সি, ক্লোসটিডিয়াম নোভি টাইপ বি এবং ক্লোসট্রিডিয়াম সেপটিকাম জীবানু সংক্রমনের কারণে যথাক্রমে স্ট্রাক, ব্ল্যাক এবং ব্রাক্সি রোগ হয়ে থাকে।

ভেড়ার রোগ

ভেড়ার ক্লোস্ট্রিডিয়াল ইনফেকশন

রোগের লক্ষণঃ

  সাধারণত কোন লক্ষণ প্রকাশের আগেই ভেড়া মারা যেতে পারে।

  স্ট্রাক হলে ভেড়া বসা অবস্থা থেকে উঠতে পারে না, চার পা চারদিকে ছড়িযে বুকের উপর ভর দিয়ে মাথা ও থুতনি নিচু করে শুয়ে থাকে। দাত কিড়মিড় করে, মুখে ফেনা দেখা যায়, শরীর অসাড় হয়ে যায় এবং রক্ত মিশ্রিত পাতলা পায়খানা হতে পারে।

  ব্লাক ডিজিজ হলে ভেড়ার লিভার নষ্ট হয়ে যায় ফলে খুব সহজেই ভেড়া মারা যায়।

  ব্রাক্সি হলে ভেড়ার পেটে প্রচন্ড ব্যাথা হয় ফলে ভেড়া মাটিতে শুয়ে পরে, ঝিমায় এবং মারা যায়।

  আক্রান্ত পশুর শ্বাস—প্রশ্বাসের হার বেড়ে যেতে পারে। পাতলা পায়খানা হয়। দুর্বল হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়।

  স্ট্রাক ও বাক্সি রোগে সাধারণত বাচ্চা ভেড়া বেশী আক্রান্ত হয়, অপরদিকে ব্লাক ডিজিজে সাধারণত ২—৪ বছর বয়সের ভেড়া আক্রান্ত হয়।

চিকিৎসাঃ

যেহেতু এসকল রোগে লক্ষণ প্রকাশের আগেই হঠাৎ মারা যায়, সেহেতু এ রোগের চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ কম। তবে লক্ষণ বুঝা গেলে ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধঃ

  • প্রয়োজনীয় পরিমানের অধিক দানাদার খাদ্য সরবরাহ না করা।
  • ভেড়াকে পরিমিত দানাদার খাদ্য সরবরাহ করা।
  • খামারে হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
  • জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ল্যাম্ব ডিসেন্ট্রি

ক্লোসট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন্স টাইপ বি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনের কারণে এ রোগ হয়। সাধারণত ১—৪ দিন বয়সি বাচ্চাতে বেশী দেখা যায় তবে ৩ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত এ রোগ হতে পারে। এ রোগে মৃত্যুর হার ২০—৩০%।

রোগের লক্ষণঃ

  সাধারণত কোন লক্ষণ প্রকাশের আগেই বাচ্চা ভেড়া মারা যেতে পারে।

  দুধ খাওয়া অবস্থায ভেড়ার পেটে প্রচন্ড ব্যাথা হয় ফলে ভেড়া মাটিতে শুয়ে যায়, শ্বাস—প্রশ্বাসের হার বেড়ে যেতে পারে। আমাশয় হতেও পারে না ও হতে পারে। দুর্বল হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়।

চিকিৎসাঃ

  যেহেতু এ রোগে লক্ষণ প্রকাশের আগেই হঠাৎ মারা যায়, সেহেতু এ রোগের চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ কম। তবে লক্ষণ বুঝা গেলে ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধঃ

  মা ভেড়ার ওলান পরিষ্কার রাখতে হবে।

  বাচ্চা ভেড়ার বাসস্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

  খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী।

 

ভেড়ার টিটেনাস রোগ

ক্লোসট্রিডিয়াম টিটানি নামক ব্যকটেরিয়া সংক্রমনের কারনে এ রোগ হয়। সাধারণত গভীর ক্ষতে এ রোগের জীবাণু সংক্রমণ শুরু হয়। ভেড়ার বাচ্চাকে খাসী করনের সময় টিটেনাস টক্সয়ড টিকা প্রদান না করলে সে ক্ষতস্থানে জীবাণু প্রবেশ ঘটে এবং রোগাক্রান্ত হয়। এরোগে মৃত্যুঝুকি প্রায় শতভাগ।

রোগের লক্ষণঃ

  সাধারণত আক্রান্ত ভেড়ার বিভিন্ন অংশের মাংশপেশী শক্ত হয়ে যায়।

  মাংসপেশীর খিচুনি, প্রস্রাব পায়খানা না হওয়া, গায়ের তাপমাাত্রা বেড়ে যাওয়া, ধীরে ধীরে নিশ^াস বন্ধ হয়ে মেও যায় ।

চিকিৎসাঃ

  এ রোগের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায় না। প্রাথমিক পযার্য়ে রোগ সনাক্ত করা গেলে ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধঃ

  • ক্যাসট্রেশন বা যেকোন অস্ত্রপাচার করার পূর্বেই টিটেনাস টক্সয়েড প্রদান করতে হবে।
  • বাচ্চা ভেড়ার বাসস্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  • খামারে হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
  • জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

ভেড়ার ফুট রট

ব্যাকটেরয়ড নোডোসাস নামক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনের ফলে এ রোগ হয়। এতে সাধারণত পায়ের ক্ষুরার গোড়ায় পচন দেখা দেয়, দুর্গন্ধ হয়। কখনো কখনো ওলানেও রোগ সংক্রমন হতে পারে। এক্ষেত্রে ভেড়ার পা ৫% কপার সালফেট দ্রবণের সাহায্যে পরিষ্কার করে এন্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

 

ভেড়ার গর্ভপাত সম্পর্কিত রোগ

ভেড়ার গর্ভপাত সম্পর্কিত ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগঃ ভিব্রিওসিস, ব্রুসেলোসিস ও লিস্টেরিওসিস রোগ ভেড়াতে গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। এসকল রোগ সম্পর্কিত তথ্যাদি নিম্ন ছকে উপস্থাপন করা হলো

 

রোগের নামঃ ভিব্রিওসিস (Vibriosis in Sheep)

কারণঃ Campylobacter fetus.

লক্ষণঃ গভার্বস্থার শেষ সপ্তাহে ভেড়ার গর্ভপাত হয়।  জীবিত দুর্বল বাচ্চা হলেও জন্মের ২—৩ দিনের মধ্যে বাচ্চা মারা যায়।

চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক উচ্চ ক্ষমতাশালী এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে তবে ফলাফল খুব ভালো নয়।

প্রতিরোধঃ খামারে হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

রোগের নামঃ ব্রুসেলোসিস (Brucelosis in Sheep)

কারণঃ Brucela ovis

লক্ষণঃ গভার্বস্থার শেষের দিকে ভেড়ার গর্ভপাত হয় এবং গর্ভফুল আটকিয়ে যায়। পুরুষ ভেড়াতে অন্ডকোষ ফুলে যায়। এটি একটি জুনোটিক রোগ। এই রোগ পশু থেকে মানুষে সংক্রামিত হতে পারে।

চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক উচ্চ ক্ষমতাশালী এন্টিবায়োটিক দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

প্রতিরোধঃ খামারে হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ব্রুসেলা আক্রান্ত পাঁঠা ভেড়া খামার হতে বাতিল করা এবং প্রজনন কাজে ব্যবহার না করা।

রোগের নামঃ লিস্টেরিওসিস (Listeriosis in Sheep)

কারণঃ Listeria monocytogenes

লক্ষণঃ গভার্বস্থার যেকোন সময়ে ভেড়ার গর্ভপাত, মস্তিষ্ক প্রদাহ, চক্রাকারে হাঁটা। আক্রান্ত ভেড়ীর যোনীদ্বার হতে বাদামী রংয়ের মিউকাস পড়া।

চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক উচ্চ ক্ষমতাশালী এন্টিবায়োটিক দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

প্রতিরোধঃ খামারে হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

ভেড়ার ভাইরাস জনিত রোগ

ভেড়ার বসন্ত (Sheep pox)

ভেড়ার ভাইরাস জনিত রোগের মধ্যে শীপ পক্স অন্যতম। এ রোগে বাচ্চা ভেড়াতে মৃত্যু হার অনেক বেশী। এ রোগ সহজেই এক ভেড়া হতে অন্য ভেড়াতে ছড়ায়।

লক্ষণঃ

  বাচ্চা ভেড়াতে জ্বর, ঝিমুনী, নাক ও মুখ দিয়ে পানি পড়া।

  কোন কোন ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যেতে পারে।

  বয়স্ক ভেড়ার পায়ুপথ, দুধের বাটে, মুখ গহবরে, কানে গুটি উঠতে দেখা যায়।

চিকিৎসাঃ

এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। তবে প্রাথমিক পযার্য়ে রোগ সনাক্ত করা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক এন্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

প্রতিরোধঃ

  • টিকা প্রদানই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র পথ।
  • খামারে হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
  • খামারে জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

ভেড়ার পিপিআর রোগ (PPR in Sheep)

পিপিআর রোগটিতে সাধারণত ছাগলে প্রাদুর্ভাব বেশী হয়ে থাকে। ভেড়াতে এই রোগের প্রাদুভার্ব খুবই কম দেখা যায়। এরোগে আক্রন্ত ভেড়াতে পাতলা পায়খানা, নাক দিয়ে তরল বের হওয়া, গায়ের তাপমাত্রা বেড়ে ১০৬—১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উন্নীত হওয়া এবং শ্বাস কষ্ট দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা প্রদান না করলে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

চিকিৎসাঃ

এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। তবে প্রাথমিক পযার্য়ে রোগ সণাক্ত করা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক এন্টিবায়োটিক, স্যালাইন ও এন্টিবডি জাতীয় ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

প্রতিরোধঃ

  টিকা প্রদানই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র পথ।

  টিকা প্রদানের সাথে সাথে খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী।

ভেড়ার ক্ষুরা রোগ (FMD in Sheep)

এফএমডি ভাইরাস জনিত দ্বিধাবিভক্ত ক্ষুর বিশিষ্ট প্রাণির এ রোগ হয়ে থাকে। সাধারণত গরু— ছাগলের পাশাপাশি ভেড়াতেও এ রোগ দেখা যায়। আক্রান্ত ভেড়াকে প্রথমদিকে খুড়িয়ে হাটতে দেখা যায়। পরবতীর্তে মুখে, ডেন্টাল প্যাডে, ক্ষুরার মাঝখানে ফোসকা পড়তে দেখা যায়।

ভেড়ার রোগ

ভেড়ার ক্ষুরা রোগ – মুখে ও মাড়িতে ক্ষত

ভেড়ার রোগ

ভেড়ার ক্ষুরা রোগ – ক্ষুরের মাঝে ক্ষত

 

চিকিৎসাঃ

এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। তবে প্রাথমিক পযার্য়ে রোগ শণাক্ত করা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে। তাছাড়া আক্রান্ত স্থান ৪% সোডি বাই কার্ব দিয়ে ধৌত করে সালফোনিলামাইড জাতীয় পাউডার প্রয়োগ করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে যেন মাছি বসতে না পারে।

প্রতিরোধঃ

  টিকা প্রদানই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র পথ।

  টিকা প্রদানের সাথে সাথে খামারের জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী।

অন্যান্য ব্যকটেরিয়া ও ভাইরাস জনিত রোগের মধ্যে নিউমোনিয়া, ম্যাসটাইটিস অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ রোগ যা ভেড়াতেও সংক্রমিত হতে পারে। এ সকল রোগের সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা হলে ভেড়া সুস্থ হয়।

 

ভেড়ার পরজীবিজনিত রোগ

পরজীবিজনিত রোগ সমূহের মধ্যে কলিজা কৃমি, হেমনকোসিস, মেনজ (টিকস সংক্রমন), উকুন, আঠালি ও প্রটোজোয়া সংক্রমনজনিত রোগ উল্লেখযোগ্য। এসকল রোগ নিয়ন্ত্রনে যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় তা হলোঃ

  • বছরে অন্তত ২ বার কৃমিনাশক প্রদান করতে হবে।
  • ভেড়াকে ০.৫% মেলাথিয়ন দ্রবণে ডিপিং করতে হবে অথবা ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুসারে সঠিক মাত্রায় চামড়ার নীচে আইভারমেকটিন ইনজেকশন করাতে হবে।
  • প্রটোজোয়া জনিত রোগের ক্ষেত্রে ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুসারে প্রয়েজনীয় চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
  • খামারে হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
  • জীব—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।