ভারসাম্য জাতীয় আয় বলতে কি বুঝায়? (What is meant by Equilibrium Level of National Income?)

যে স্তরে জাতীয় আয়ের উঠানামার প্রবনতা থাকে না তাকে ভারসাম্য জাতীয় আয়স্তর বলে। আবার অন্যভাবে, সামগ্রিক চাহিদা (AD) ও সামগ্রিক যোগানের (AS) সমতার মাধ্যমে যে আয়স্তর অর্জিত হয় তাকে ভারসাম্য আয় বলা হয়।

ভারসাম্য জাতীয় আয়ের স্তরে সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চলকসমুহ যেমন ভোগ (C), বিনিয়োগ (I), সরকারি ব্যয় (G), কর (T), রাজস্বনীতি, মুদ্রানীতি, যোগাযোগ ও পরিবহন, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো ইত্যাদি স্থির থাকলে আয়স্তরও স্থির থাকে। এই চলকগুলির যে কোন একটিও পরিবর্তিত হলে দেশের আয়স্তরেরও পরিবর্তন হতে পারে। যেমন, ভোগব্যয় বাড়লে বা কমলে আয়স্তর বাড়ে বা কমে। বিনিয়োগ বাড়লে বা কমলে ভারসাম্য আয়স্তর যথাক্রমে বাড়ে বা কমে। এ জন্য এ সকল সামষ্টিক অর্থনৈটিক চলকসমুহ স্থির ধরে জাতীয় আয়ের স্থিতাবস্থা নির্ণয় করা হয়। জাতীয় আয়ের এরূপ স্থিতাবস্থাকে বলা হয় ভারসাম্য জাতীয় আয়।

নিম্নে চিত্রের সাহায্যে  ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ দেখানো হল-

ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ

চিত্রের OX অক্ষে আয় এবং OY অক্ষে সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান ধরা হয়েছে।  450 রেখা হচ্ছে  সামগ্রীক যোগান রেখা। C+I=AD হচ্ছে সামগ্রিক চাহিদা রেখা।  E বিন্দুতে সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান পরস্পর সমান। তাই E হচ্ছে ভারসাম্য বিন্দু। যেখানে ভারসাম্য জাতীয় আয় হচ্ছে OYo । যদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকসমুহ স্থির থাকে তাহলে ভারসাম্য জাতীয় আয় Yo তে অপরিবর্তিত থাকবে। উল্লেখ্য যে, ভারসাম্য জাতীয় আয় এবং পূর্ণ নিয়োগস্তরে জাতীয় আয় সব সময় এক নাও হতে পারে।

ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ পদ্ধতি (Method of Determination of Equilibrium Level National Income)

ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণের প্রচলিত ২টি পদ্ধতি রয়েছে। যথা-

ক) সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সমতা

খ) সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগানের সমতা।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সমতা পদ্ধতি (Equality of Savings and Investment)

মোট আয় থেকে মোট ভোগব্যয় বাদ যা অবশিষ্ট থাকে তাকে বলা হয় সঞ্চয়। আবার, সঞ্চয় মূলধনে রূপান্তরিত হয়। সেই রূপান্তরিত মূলধন যখন উৎপাদনকার্যে নিয়োজিত হয় তখন তাকে বলা হয় বিনিয়োগ। সঞ্চয় ও বিনিয়োগ পরস্পর সমান হলে সেই সমতাস্থলে ভারসাম্য আয় নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ, সঞ্চয় সম্পূর্ণরূপে বিনিয়োগে রূপান্তরিত হলে পাওয়া যায় ভারসাম্ঋ আয়।

বৈদেশিক বানিজ্য ও সরকারি খাতকে আলোচনার অন্তর্ভূক্ত না করে দেশের অধিবাসীদের ভোগকারী পরিবারসমুহ এবং উৎপাদনকারী পরিবারসমুহ এ দুভাগে ভাগ করা যায়। (একই পরিবার যখন উৎপাদন করে তখন যেটুকু উৎপাদন করে সেটুকু উৎপাদনকারী পরিবারের ভিতর এবং যখন ভোগ করে তখন যেটুকু ভোগ করে সেটুকু ভোগকারী পরিবারের ভিতর হিসাব করা হয়। যেমন, আমি যখন আমার অফিসে সেবা প্রদান করি তখন আমি সেবাদাতা, আবার যখন আমি অন্য অফিস থেকে সেবা গ্রহণ করি তখন আমি সেবাগ্রহীতা।)

এমতাবস্থায়, দেশের সামগ্রিক ব্যয় হবে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ ব্যয়ের সমষ্টির সমান। আয়ের দিক থেকে বিবেচনা করলে সামগ্রিক আয় হবে ভোগ ও সঞ্চয়ের সমষ্টির সমান। কারণ, মানুষ তার আয়ের টাকা ভোগের জন্য ব্যয় এবং বাকিটা সঞ্চয় করে। অর্থাৎ, সামগ্রিক আয় = ভোগ (C) + সঞ্চয় (S) এবং সামগ্রিক ব্যয় = ভোগ (C) + বিনিযোগ (I)।

সুতরাং যে স্তরে সামগ্রিক আয় ও সামগ্রিক ব্যয় পরস্পর সমান হবে সেই স্তরেই সঞ্চয় ও বিনিয়োগ পরস্পর সমান হবে এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সমতাস্থলে ভারসাম্য আয় নির্ধারিত হবে।

ধরি, ৫০০ কোটি টাকা আয়স্তরে ভোগকারীগণ সামগ্রিকভাবে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করে এবং বাকি ১০০ কোটি টাকা সঞ্চয় করে। কিন্তু, এক্ষেত্রে উৎপাদনকারীগন কর্তৃক উৎপাদিত ৫০০ কোটি টাকার উৎপাদন লাভজনক হবে না। কারণ, ১০০ কোটি টাকার পণ্য অবিক্রীত থেকে যাবে। এতে উৎপাদনকারীগণ উৎপাদন হ্রাস করবে এবং আয়ও হ্রাস পাবে। কিন্তু উৎপাদনকারীগণ যদি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি কিংবা পণ্যের মজুদ বৃদ্ধি করার জন্য ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তবে সামগ্রিক ব্যয় মোট উৎপাদনের আর্থিক মূল্যের সমান হবে। ফলে আয় ও উৎপাদন ভারসাম্য অবস্থায় ফিরে আসবে। তাই বলা যায় যে, যে আয়স্তরে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সমান হয় তাই ভারসাম্য আয়স্তর।

ভারসাম্য আয়স্তরে জনগন যে পরিমান সঞ্চয় করে ব্যবসারীরা সে পরিমান বিনিয়োগ করে। ফলে এ অবস্থায় আয়স্তরের পরিবর্তনের কোন কারণ থাকে না।

এখানে উল্লেখ্য় যে, জাতীয় আয় ও সমাজের সামগ্রিক ব্যয় পরস্পর সমান হলে প্রকৃত সঞ্চয় সর্বদাই প্রকৃত বিনিয়োগের সমান হয়। কিন্তু প্রকৃত সঞ্চয় ও প্রকৃত বিনিয়োগ সর্বদা সমান হলেও পরিকল্পিত সঞ্চয় ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ সকল আয়েরস্তরে সমান নয়। কারণ, যদিও সঞ্চয় আয়ের দ্বারা নির্ধারিত হয়, কিন্তু বিনিয়োগ অনিশ্চিত। তাই কোন একটি আয়ের স্তরেই পরিকল্পিত সঞ্চয় পরিকল্পিত বিনিয়োগের সমান হয় এবং এটিই ভারসাম্য আয়।

নিম্নে রেখা চিত্রের সাহায্যে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সমতাস্থলে ভারসাম্য আয় নির্ধারণ প্রক্রিয়া দেখানো হল-

সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সমতাস্থলে ভারসাম্য আয়

চিত্রের OX অক্ষে জাতীয় আয় এবং OY অক্ষে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। SS পরিকল্পিত সঞ্চয় রেখা এবং II পরিকল্পিত বিনিয়োগ রেখা। II রেখা ভূমির সমান্তরাল। কারণ, এখানে ধরে নেয়া হয়েছে যে বিনিয়োগ স্বয়ম্ভূত। E বিন্দুতে II রেখা ও SS রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে। তাই E বিন্দুই ভারসাম্য বিন্দু এবং OYO হচ্ছে ভারসাম্য জাতীয় আয় ।

আয় যদি OYO থেকে কমে OY1 তখন সঞ্চয়ের পরিমান হয় E2Y1 এবং বিনিয়োগের পরিমান হয় E1Y1 । অর্থাৎ, OY1 আয়স্তরে সঞ্চয়ের চাইতে বিনিয়োগ E1E2  পরিমান বেশি।  ফলে উৎপাদন ও আয় বেড়ে আবার Y0 এর দিকে ফিরে যাবে।

আবার, আয় যদি  Yএর চেয়ে বেশি হয় অর্থাৎ OY2 হয় তবে সঞ্চয়ের পরিমান হয় E3Y2 এবং বিনিয়োগের পরিমান হয় E4Y2 অর্থাৎ Y2 আয়স্তরে পরিকল্পিত সঞ্চয় E3E4 পরিমান বেশি। ফলে উৎপাদিত দ্রব্যের মোট চাহিদা মোট যোগানের চেয়ে কম হয় এবং তাতে উৎপাদিত দ্রব্যের একটা অংশ বাজারে অবিক্রীত থেকে যাবে এবং ব্যবসায়ীদের লোকশান হবে। ফলে স্বভাবত কারণেই আয় ও উৎপাদন কমে OYএর দিকে নেমে আসবে।

অতএব, OY0 আয়স্তরে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ পরস্পর সমান হলে সমাজের সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান পরস্পর সমান হবে। তাই, OY0 আয়স্তরটি স্থিতিশীল হবে। এটি হল ভারসাম্য আয়স্তর।

 

গানিতিক উদাহরণ (Mathematical Example)

ধরি, সঞ্চয় সমীকরণ, S = -50 + 0.5Y এবং I = 100

যেখানে, S = সঞ্চয়, I = বিনিয়োগ এবং Y = জাতীয় আয় ।

ভারসাম্য অবস্থায়, S = I

  • -50 + 0.5Y = 100
  • 5Y = 100 + 50
  • Y = 150/0.5 = 300

ভারসাম্য আয় (300) সঞ্চয় সমীকরণে বসিয়ে পাই,

S = -50 + 0.5Y

  • S = -50 + 0.5(300)
  • S = -50 + 150

অতএব, S = 100

অর্থাৎ, ভারসাম্য আয়ে (300) সঞ্চয় (100) ও বিনিয়োগ (100) পরস্পর সমান।

 

সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগানের সমতা পদ্ধতি [Equality of Aggregate Demand (AD) and Aggregate Supply (AS)]

দেশের সকল মানুষের চাহিদার সমষ্টিই হচ্ছে সামগ্রিক চাহিদা। সামগ্রিক চাহিদা নির্ভর করে জাতীয় আয়ের উপর (অন্যান্য চলক স্থির স্বাপেক্ষে)। সহজ দ্বিখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে মানুষ সাধারণত দু’টি উদ্দেশ্যে ব্যয় করে – ভোগ (C) ও বিনিয়োগ (I)। তাই সহজ দ্বিখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা হচ্ছে ভোগ ব্যয় ও বিনিয়োগ ব্যয়ের সমষ্টি। অর্থাৎ, AD = C + I. সাধারণত আয় বাড়লে ভোগ (C) ও বিনিয়োগ (I) উভয়টাই বাড়ে। তাই সামগ্রিক চাহিদা (AD)ও বাড়ে। এজন্য সামগ্রিক চাহিদা রেখা বামদিক থেকে ডানদিকে ঊর্ধগামী হয়।

একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমান বিক্রয়যোগ্য সেবা ও পণ্য উৎপাদিত হয় তার সমষ্টিকে বলা হয় সামগ্রিক যোগান। অবশ্য সমগ্র উৎপাদন ব্যবস্থা নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমান সেবা ও পণ্য উৎপান করতে সক্ষম বা প্রস্তুত তাকেও সামগ্রিক যোগান বলা হয়।

অধ্যাপক J. M. Keynes এর মতে, কোন নির্দিষ্ট পরিমান পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে উৎপাদনকারীকে অনুপ্রাণিত করার জন্য যে সামগ্রিক চাহিদা থাকার দরকার তাকে সামগ্রিক যোগান বলে।

অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে সামগ্রিক যোগান নির্ভর করে জাতীয় আয়ের উপর। আয় বাড়লে সামগ্রিক যোগান বাড়ে, আয় কমলে সামগ্রিক যোগান কমে। তাই সামগ্রিক যোগান (AS) রেখা বামদিক থেকে ডানদিকে ঊর্ধগামী হয়।

সামগ্রিক চাহিদা (AD) ও সামগ্রিক যোগান (AS) সমতাস্থলে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারিত হয়। AD > AS হলে আয় বৃদ্ধি প্রবনতা দেখা দেয়। কেননা, AD বেশি হলে মুনাফার প্রত্যাশা বাড়ে, ব্যবসায় বানিজ্যের প্রসার ঘটে, বিনিয়োগ বাড়ে, বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়ে এবং আয় বাড়ে।

অন্যদিকে, AD < AS হলে আয় হ্রাসের প্রবনতা দেখা দেয়। কেননা AD কম হলে অবিক্রীত পণ্যের মজুদ গড়ে উঠে, ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়, বিনিয়োগ হ্রাস পায়, উৎপাদন কমে যায় এবং আয় কমে যায়।

একমাত্র যেখানে সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান পরস্পর সমান হয় অর্থাৎ AD = AS হয় সেখানেই ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারিত হয়।

নিচের চিত্রে AD = AS পদ্ধতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ প্রক্রিয়া দেখানো হল-

AD = AS পদ্ধতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ

 

চিত্রের OX অক্ষে জাতীয় আয় এবং OY অক্ষে সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান ধরা হয়েছে। এখানে C + I = AD হচ্ছে সামগ্রিক চাহিদা রেখা।  Y = AS হচ্ছে সামগ্রিক যোগান রেখা।  AD এবং AS রেখা পরস্পরকে  E বিন্দুতে ছেদ করেছে। কাজেই E হল ভারসাম্য বিন্দু। Y0  হল ভারসাম্য আয়স্তর যেখানে AD = AS । E বিন্দুর বামে  Yআয়স্তরে AD > AS। আবার, E বিন্দুর ডানে AD < AS । এক্ষেত্রে আয়স্তর হ্রাস পায়। কাজেই Yহল ভারসাম্য আয়স্তর যখানে AD=AS ।

গানিতিক উদাহরণ (Mathematical Example)

একটি কাল্পনিক ভোগ সমীকরণ ও বিনিয়োগ সমীকরণ ব্যবহার করে নিম্নে গানিতিকভাবে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ করে দেখানো হল-

ধরি, C = 100 + 0.5Y এবং I = 100; তাহলে, Y =?

আমরা জানি, Y = C + I

মান বসিয়ে পাই,

Y = 100 + 0.5Y + 100

  • Y – 0.5Y = 200
  • 5Y = 200

অতএব, Y = 200/0.5 = 400 (ভারসাম্য জাতীয় আয়)

কেইনসের আয় নির্ধারণ পদ্ধতি (Keynesian System of Income Determination)

বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ J. M. Keynes জাতীয় আয়ের ভারসাম্য স্তর নির্ধারণের জন্য একটি নিজস্ব পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন যা Coross Diagram নামে পরিচিত। Keynes 450 রেখাকে সামগ্রিক যোগান রেখা (AS) হিসাবে উল্লেখ করেন যা মূল বিন্দু থেকে উত্থিত হয়ে ডানদিকে ঊর্ধগামী হয়। কেইনসের মতে, একটি সহজ দ্বিখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি ভোগ রেখার সাথে স্বয়ম্ভূত বিনিয়োগ যুক্ত হয়ে সামগ্রিক চাহিদা (AD) রেখার সৃষ্টি হয়। সামগ্রিক চাহিদা (AD) রেখার যে বিন্দুতে সামগ্রিক যোগান (AS) রেখা ছেদ করে সেই বিন্দুতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারিত হয়।

নিম্নের চিত্রে কেইনসের পদ্ধতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হল-

কেইনসের পদ্ধতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ

 

চিত্রে, OX অক্ষে আয় এবং OY অক্ষে সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান ধরা হয়েছে। এখানে,  C + I = AD হচ্ছে সামগ্রিক চাহিদা রেখা এবং Y = AS হচ্ছে সামগ্রিক যোগান রেখা। AD এবং AS রেখা পরস্পর ছেদ করেছে E বিন্দুতে। কাজেই E হল ভারসাম্য বিন্দু এবং OY0 হল ভারসাম্য জাতীয় আয় যেখানে AD = AS । E বিন্দুর বামে Y1 আয়ের স্তরে  AD > AS । এক্ষেত্রে আয়স্তর আরও বৃদ্ধি পাবে। আবার, E বিন্দুর ডানে AD < AS। এক্ষেত্রে আয়স্তর হ্রাস পায়। কাজেই Y0 হল ভারসাম্য আয়স্তর যেখানে  AD=AS ।

সরকারি খাতসহ মিশ্র অর্তনীতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ (Determination of Equilibrium Level of National Income in a Mixed Economy with Govt. Sector)

অর্থনীতিতে বা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সরকারি  খাত অন্তর্ভূক্ত করলে তাকে বলে তিনখান বিশিষ্ট মিশ্র অর্থনীতি। দ্বিখাত বিশিষ্ট সরল অর্থনীতিতে শুধু মাত্র ভোগব্যয় (C) ও বিনিয়োগ ব্যয়কে (I) অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যদি সরকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে তাহলে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ ব্যয়ের সাথে সরকারি ব্যয়ও অন্তর্ভূক্ত হবে। তাই একে বলা হয় তিনখাত বিশিষ্ট মিশ্র অর্থনীতি। এককথায়, তিনখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদার উপাদান হচ্ছে তিনটি – ভোগব্যয় (C), বিনিয়োগ ব্যয় (I) এবং সরকারি ব্যয় (G)।  সংক্ষেপে সামগ্রিক চাহিদা AD = C + I + G

ভারসাম্য অবস্থায় AS = AD

অর্থাৎ, Y = C + I + G

নিম্নে Keynes’ Cross Diagram এর সাহায্যে তিনখাত বিশিষ্ট অর্থনীতির ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ করে দেখানো হল-

তিনখাত বিশিষ্ট অর্থনীতির ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ

চিত্রের OX অক্ষে আয় OY অক্ষে সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান ধরা হয়েছে। AD0 = C + I হচ্ছে সহজ দ্বিখাত বিশিষ্ট অর্থনীতির সামগ্রিক চাহিদা রেখা যা সামগ্রিক যোগান রেখা Y = ASকে E বিন্দুতে ছেদ করেছে যেখানে AD0 = AS। কাজেই দুইখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় OY0 । এখন সরকারি ব্যয় অন্তর্ভূক্ত হলে সামগ্রিক চাহিদা রেখা AD1 = C + I + G যা সামগ্রিক যোগান রেখা Y = ASকে F বিন্দুতে ছেদ করেছে। সুতরাং তিনখাত বিশিষ্ট মিশ্র অর্থনীতিতে ভারসাম্য বিন্দু হচ্ছে F এবং OY0 হল ভারসাম্য জাতীয় আয়। কারণ, সেখানে AD1 = AS ।

গানিতিক উদাহণ (Mathematical Example)

কাল্পনিক ভোগ সমীকরণ, বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয় সমীকরণ ব্যবহার করে গানিতিকভাবে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ করা যায়।

ধরি, C = 100 + 0.5Y, I = 50, G = 50, Y =?

ভারসাম্য অবস্থায়, AS = AD

  • Y = C + I + G
  • Y = 100 + 0.5Y + 50 + 50
  • Y – 0.5Y = 200
  • 5Y = 200
  • Y = 200/0.5

অতএব, Y = 400 [ভারসাম্য জাতীয় আয়]

চারখাত বিশিষ্ট খোলা অর্থনীতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ (Determination of Equilibrium Level of National Income in the Four Sector Open Economy)

 

তিনখাত বিশিষ্ট অর্থনীতির সাথে যদি বৈদেশিক বানিজ্য অন্তর্ভূক্ত করা যায় তাহলে তাকে বলা হয় চারখাত বিশিষ্ট অর্থনীতি। বৈদেশিক বানিজ্য অর্থাৎ আমদানি ব্যয় (M) ও রপ্তানি আয় (X) অন্তর্ভূক্ত করা হয় বলে তাকে বলা হয় খোলা বা উন্মুক্ত অর্থনীতি (Open Economy)। চারখাত বিশিষ্ট খোলা অর্থনীতিতে আমদানি ব্যয় (M) ও রপ্তানি আয় (X)এর ব্যবধান অর্থাৎ নীট রপ্তানি (X-M) কে বিবেচনা করা হয়। চারখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদার উপাদান চারটি – ভোগব্যয় (C), বিনিয়োগ ব্যয় (I), সরকারি ব্যয় (G) এবংনীট রপ্তানি (X-M)কে বিবেচনা করা হয়।

সংক্ষেপে চারখাত বিশিষ্ট খোলা অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদাকে লেখা যায়, AD = C + I + G + (X – M)

এক্ষেত্রে ভারসাম্য শর্ত, AS = AD

  • Y = C + I + G + X – M

নিম্নে Keynes এর Cross diagramএর সাহায্যে চারখাত বিশিষ্ট মুক্ত অর্থনীতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ করে দেখানো হল-

চারখাত বিশিষ্ট মুক্ত অর্থনীতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ

চিত্রের OX অক্ষে আয় এবং OY অক্ষে সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান ধরা হয়েছে। দুইখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা রেখার C + I = AD0  যাহা সামগ্রিক যোগান রেখা  Y = AS কে A বিন্দুতে ছেদ করেছে। অর্থাৎ A হচ্ছে দুইখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে ভারসাম্য বিন্দু যেখানে ভারসাম্য জাতীয় আয় OY0 । অন্যদিকে তিনখাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে জাতীয় ভারসাম্য আয় হল OY1  যেখানে AD1 = AS । চারখাত বিশিষ্ট খোলা অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা রেখা AD2 = C + I + G + (X – M) যা সামগ্রিক যোগান রেখা Y = AS কে E বিন্দুতে ছেদ করেছে। কাজেই E  হচ্ছে চারখাত বিশিষ্ট খোলা অর্থনীতিতে ভারসাম্য বিন্দু এবং ভারসাম্য জাতীয় আয় হচ্ছে OY2 । কারণ এখানে AD2 = AS ।

লক্ষণীয় যে, চারখাত বিশিষ্ট খোলা অর্থনীতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় অন্যান্য দুই কিংবা তিনখাত বিশিষ্ট অর্থনীতির ভারসাম্য জাতীয় আয়ের চেয়ে বেশি।

তবে, বৈদেশিক বানিজ্য যদি ঋণাত্মক হয় অর্থাৎ রপ্তানি আয় যদি আমদানি ব্যয় থেকে কম (X<M) হয় তবে চারখাত বিশিষ্ট খোলা অর্থনীতির ভারসাম্য জাতীয় আয় অন্যান্য দুই কিংবা তিনখাত বিশিষ্ট অর্থনীতির ভারসাম্য জাতীয় আয়ের চেয়ে কমও হতে পারে।

 

গানিতিক উদাহরণ (Mathematical example)

কাল্পনিক ভোগ সমীকরণ, বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয়, আমদানি ও রপ্তানি সমীকরণ ব্যবহার করে আমরা চারখাত বিশিষ্ট খোলা অর্থনীতিতে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ধারণ প্রক্রিয়া গানিতিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি –

ধরি,

C = 100 + 0.5Y, I = 100, G = 100, X = 100 এবং M = 50, Y =?

ভারসাম্য অবস্থায়,

AS = AD

  • Y = C + I + G + (X – M)
  • Y = 100 + 0.5 Y + 100 + 100 + (100-50)
  • Y – 0.5Y = 350
  • Y = 350/0.5

অতএব, Y= 700 [ভারসাম্য জাতীয় আয়]

ভারসাম্য জাতীয় আয়ের উপর সরকারি করের প্রভাব (Effects of Govt. Tax on Equilibrium Level of National Income)

অন্যান্য সম্পর্কিত সামষ্টিক চলকসমুহ স্থির থাকলে সরকারি কর হারের পরিবর্তন হলে ভারসাম্য আয়স্তরের পরিবর্তন হয়। যেমন- কর হার বাড়লে মানুষের ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস পায়। তাতে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, বাজারে পণ্য ও সেবার সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়, ব্যবসায়ীদের মুনাফার প্রত্যাশা হ্রাস পায়, বিনিয়োগ হ্রাস পায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায় এবং ভারসাম্য জাতীয় আয়ের স্তরও হ্রাস পায়।

বিপরীত দিকে, যদি সরকার কর হার হ্রাস করে তাহলে মনুষের ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ব্যবসায়ীদের মুনাফার প্রত্যাশা বৃদ্ধি পায়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং ভারসাম্য জাতীয় আয়স্তরও বৃদ্ধি পায়। নিম্নে ভারসাম্য জাতীয় আয়ের উপর সরকারি করের ফলাফল চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হল-

ভারসাম্য জাতীয় আয়ের উপর সরকারি করের ফলাফল

চিত্রে OX অক্ষে আয় এবং OY অক্ষে সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগান ধরা হয়েছে।  45রেখাকে সামগ্রিক যোগান রেখা ধরা হয়েছে। AD = C + I হচ্ছে প্রাথমিক সামগ্রিক চাহিদা রেখা যা সামগ্রিক যোগান রেখাকে A বিন্দুতে ছেদ করেছে। তাই A হচ্ছে প্রাথমিক ভারসাম্য বিন্দু যেখানে ভারসাম্য জাতীয় আয়  OY0 । এখন যদি সরকার কর হার বৃদ্ধি করে অর্থাৎ সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণ করে  তাহলে সামগ্রিক চাহিদা রেখা নিচের দিকে স্থান পরিবর্তন করে AD= C + I হয় যা সামগ্রিক যোগান রেখাকে B বিন্দুতে ছেদ করেছে। B হচ্ছে নতুন ভারসাম্য বিন্দু যেখানে ভারসাম্য জাতীয় আয় হ্রাস পেয়ে OY1 হয়েছে।

সুতরাং বলা যায় সরকার কর হার বৃদ্ধি করলে ভারসাম্য জাতীয় আয়স্তর হ্রাস পায়। অন্যদিকে, সরকার কর হার হ্রাস করলে ভারসাম্য জাতীয় আয়স্তর বৃদ্ধি পায়।

গানিতিক উদাহরণ (Mathematical example)

ভারসাম্য জাতীয় আয়ের উপর কর হার বৃদ্ধির ফলাফল গানিতিকভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়-

ধরি, Y = C + I

C = 100 + 0.6Yd, Yd = Y – tY, I = 50 এবং t= 0.25 (C=ভোগ ব্যয়, Yd= ব্যয়যোগ্য আয়, Y= মোট আয়, t= করের হার)

Y = C + I

  • Y = 100 + 0.6Yd + 50
  • Y = 150 + 0.6(Y – tY)
  • Y = 150 + 0.6(Y – 0.25Y)
  • Y =150 + 0.45Y
  • Y – 0.45Y = 150
  • 55Y = 150
  • Y = 150/0.55

অতএব, Y = 272.73 (প্রাথমিক আয়)

এখন মনে করি সরকার কর হার বৃদ্ধি করে 0.30 করল। এমতাবস্থায়,

Y = C + I

  • Y = 100 + 0.6Yd + 50
  • Y = 150 + 0.6(Y – tY)
  • Y = 150 + 0.6(Y – 0.3Y)
  • Y = 150 + 0.42Y
  • Y -0.42Y = 150
  • 58Y = 150
  • Y = 150/0.58

অতএব, Y = 258.62 (পরিবর্তিত আয়)

সুতরাং বলা যায়, কর হার বৃদ্ধি পেলে ভারসাম্য জাতীয় আয়স্তর হ্রাস পায়।

ভারসাম্য জাতীয় আয়ের উপর সরকারি ব্যয়ের প্রভাব (Effects of Govt. Expenditure on Equilibrium Level of National Income)

পরস্পর সম্পর্কিত সামষ্টিক চলকসমুহ স্থির থাকলে সরকারি ব্যয়ের পরিবর্তনের ফলে ভারসাম্য জাতীয় আয়ের পরিবর্তন হয়।

সরকারী ব্যয় বাড়লে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় বাড়ে। ফলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, বাজারে পণ্য ও সেবাসামগ্রীর চাহিদা বাড়ে, ব্যবসায়ীদের মুনাফার প্রত্যাশা বাড়ে, ফলে বিনিয়োগ বাড়ে । এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং ভারসাম্য জাতীয় আয়স্তর বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, সরকারি ব্যয় হ্রাস করলে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় কমে যায় এবং ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। বাজারে পণ্য ও সেবাসামগ্রীর চাহিদা হ্রাস পায়। ব্যবসায়ীদের মুনাফারও প্রত্যাশা কমে যায় এবং ফলস্বরূপ বিনিয়োগ হ্রাস পায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায় এবং চূড়ান্ত প্রভাব হিসাবে ভারসাম্য জাতীয় আয় হ্রাস পায়।

এভাবে, সরকারি ব্যয় বাড়লে ভারসাম্য জাতীয় আয় বাড়ে এবং সরকারি ব্যয় কমলে ভারসাম্য জাতীয় আয় কমে।

নিচের চিত্রের সাহায্যে ভারসাম্য জাতীয় আয়ের উপর সরকারি ব্যয়ের প্রভাব ব্যাখ্যা করা হল-

ভারসাম্য জাতীয় আয়ের উপর সরকারি ব্যয়ের প্রভাব

চিত্রের OX অক্ষে আয় এবং OY অক্ষে সামগ্রিক চাহিদা (AD) ও সামগ্রিক যোগান (AS) ধরা হয়েছে। 450 রেখাকে সামগ্রিক যোগান রেখা হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। AD = C + I হচ্ছে প্রাথমিক সামগ্রিক চাহিদা রেখা যা সামগ্রিক যোগান রেখাকে A বিন্দুতে ছেদ করেছে। কাজেই, A হচ্ছে প্রাথমিক ভারসাম্য বিন্দু যেখানে ভারসাম্য জাতীয় আয় OY0। এখন যদি সরকার ব্যয় বাড়ায় তবে সামগ্রিক চাহিদা রেখা উপরের দিকে স্থান পরিবর্তন করে AD= C + I হয় যা সামগ্রিক যোগান রেখাকে B বিন্দুতে ছেদ করে। কাজেই B হচ্ছে পরিবর্তিত ভারসাম্য বিন্দু যেখানে ভারসাম্য জাতীয় আয় বেড়ে দাঁড়ায় OY1

সুতরাং বলা যায়, সরকার ব্যয় বাড়ালে অর্থাৎ সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণ করলে ভারসাম্য জাতীয় আয় বাড়ে এবং সরকার ব্যয় কমালে অর্থাৎ সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণ করলে ভারসাম্য জাতীয় আয় কমে।

গানিতিক উদাহরণ (Mathematical example)

ভারসাম্য জাতীয় আয়ের উপর সরকারি ব্যয় পরিবর্তনের ফলাফল গানিতিকভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়। যেমন-

ধরি, Y = C + I + G, C = 50 + 0.5Y, I = 50 এবং G = 50

ভারসাম্য শর্তানুসারে, Y = C + I + G

  • Y = 50 + 0.5Y + 50 + 50
  • Y – 0.5Y = 150
  • 5Y = 150
  • Y = 150/0.5

অতএব, Y = 300[50 সরকারি ব্যয়ে ভারসাম্য আয়]

এখন যদি সরকার ব্যয় বাড়িয়ে 50 এর স্থলে 100তে উন্নীত করে তবে,

Y = C + I + G

  • Y = 50 + 0.5Y + 50 + 100
  • Y – 0.5Y = 200
  • 5Y = 200
  • Y = 200/0.5
  • অতএব, Y = 400[পরিবর্তিত অর্থাৎ100 সরকারি ব্যয়ে ভারসাম্য আয়]

সুতরাং দেখা যায় যে, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ভারসাম্য জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।

                                

আরও পড়ুন: জাতীয় আয় পরিমাপের গুরুত্ব