‘ব্যস্টিক’ শব্দটি এসেছে ‘ব্যক্তি’ থেকে। অর্থনীতিতে ব্যক্তি বলতে ‘ব্যক্তি মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান’-কে বুঝানো হয়।

ইংরেজিতে ‘মাইক্রো’-এর অর্থ ক্ষুদ্র। এখানে মাইক্রো বলতে ক্ষুদ্র  ক্ষুদ্র একক অর্থে  ‘ব্যক্তি মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান’-কে বুঝানো হয়।

অর্থনীতিতে ‘ব্যক্তি মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান’-এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করাই ব্যষ্টিক অর্থনীতি বা Microeconomics এর কাজ। অর্থাৎ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে কিভাবে অংশ গ্রহণ করে বা সিদ্ধান্ত নেয় ব্যষ্টিক অর্থনীতি তাই নিয়ে আলোচনা করে।

আবার, ‘সামষ্টিক’ শব্দটি এসেছে সমষ্টি থেকে। এখানে সমষ্টি বলতে সমাজ বা রাষ্ট্রকে বুঝায়।

অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের (সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইত্যাদি) ভূমিকা কি বা সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইত্যাদি কিভাবে অংশ নেয় বা কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয় সামষ্টিক অর্থনীতি বা Macroeconomics এ।

জিডিপি,  জিএনপি,  জিএনাই, সুদের হার, আর্থিক নীতি, রাজস্ব নীতি  ইত্যাদি সামষ্টিক অর্থনীতির আলোচ্য বিষয়। 

ব্যষ্টিক অর্থনীতি বলতে কি বুঝায়?

‘ব্যস্টিক’ শব্দটি এসেছে ‘ব্যক্তি’ থেকে। অর্থনীতিতে ব্যক্তি বলতে ‘ব্যক্তি মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান’-কে বুঝানো হয়।

ইংরেজিতে ‘মাইক্রো’-এর অর্থ ক্ষুদ্র। এখানে মাইক্রো বলতে ক্ষুদ্র  ক্ষুদ্র একক অর্থে  ‘ব্যক্তি মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান’-কে বুঝানো হয়। অর্থনীতিতে ‘ব্যক্তি মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান’-এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করাই ব্যষ্টিক অর্থনীতি বা Microeconomics এর কাজ। অর্থাৎ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে কিভাবে অংশ গ্রহণ করে বা সিদ্ধান্ত নেয় Macroeconomics তাই নিয়ে আলোচনা করে।

ব্যষ্টিক অর্থনীতি

ব্যষ্টিক অর্থনীতির সংজ্ঞাঃ                          

ব্যষ্টিক অর্থনীতি  (Microeconomics) অর্থনীতির একটি মৌলিক শাখা যাতে ব্যক্তি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভোগ ও উপযোগ, উৎপাদন, মূল্য, মুনাফা ইত্যাদির নিয়ামক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাজার অর্থনীতিতে বাজারে পণ্যের ও সেবার বিনিময় ঘটে। পণ্য ও সেবা থেকে ব্যক্তি বা ভোক্তা উপযোগ লাভ করে।

বাজরে পণ্য ও সেবা বিনিময়ের প্রধান দুটি নিয়ামক হলো ব্যক্তির (বা পরিবারের) পণ্য বা সেবার চাহিদা ও উৎপাদক কর্তৃক পণ্যের ও সেবার যোগান

কোন নিয়ামক (মূল্য বা আয় ইত্যাদি) কিভাবে ভোগ তথা চাহিদার পরিমাণ নিরূপণ করে এবং উৎপাদকের ক্ষেত্রে কোন কোন নিয়ামক (উৎপাদন ব্যয়, সরকারী কর, বাজারের শ্রেণী বা প্রকৃতি) কিভাবে পণ্য বা সেবার উৎপাদন, মূল্য, বিক্রয় ও মুনাফার পরিমাণ নিরূপণ করে এ সবই ব্যষ্টিক অর্থনীতির আলোচ্য বিষয়।

আমি যেটা বুঝি তা হল ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্থনীতিতে কিভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এবং কোন কোন নিয়ামক  কিভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে তার আলোচনাই Microeconomics.

ব্যষ্টিক অর্থনীতির একটি লক্ষ্য হচ্ছে বাজার প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা। বাজার প্রক্রিয়া পণ্য ও সেবার মূল্য নির্ধারণ করে এবং সীমিত সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের জন্য বণ্টন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। ব্যষ্টিক অর্থনীতি বাজার ব্যর্থতাকে বিশ্লেষণ করে।

যেখানে বাজার দক্ষ ফলাফল তৈরীতে ব্যর্থ হয় Microeconomics সেই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সমাধানের উপায় নির্দেশ করে। ব্যষ্টিক অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রসমুহ হচ্ছে সাধারণ ভারসাম্য (general equilibrium), বিচ্ছিন্ন তথ্যের বাজার (Discrete market information), অনিশ্চয়তায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decision making under uncertainty)। ইহা ছাড়াও ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে বাজার প্রক্রিয়ার সাথে পণ্যের স্থিতিস্থাপকতা (Product elasticity) নিয়ে আলোচনা করা হয়।

Microeconomics মুলতঃ ব্যক্তি এবং ফার্ম এর অর্থনৈতিক আচরণ নিয়ে এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বাজার, বিরাজমান দুষ্প্রাপ্যতা ও সরকারি নিয়মাবলির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে। ইহা ব্যক্তি, পরিবার ও ফার্ম কিভাবে বাজারে তাদের বণ্টনকৃত সীমিত সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা নিয়ে আলোচনা করে। দাম ও চাহিদার উপর ভিত্তি করে বাজার ভারসাম্যে (equilibrium) পৌঁছে। বৃহৎ দৃষ্টিতে একে চাহিদা এবং যোগানের বিশ্লেষণ বলা হয়।

সাধারণ অণুমিত শর্ত থেকে যখন বিশ্লেষণ আরম্ভ হয় এবং বাজারের আন্যান্য আচরণ অপরিবর্তিত থাকে, তাকে আংশিক ভারসাম্য বিশ্লেষণ (Partial equilibrium analysis) বলা হয়। সাধারণ ভারসাম্য তত্ত্বে বিভিন্ন বাজারের পরিবর্তন এবং সকল বাজারের সামগ্রিক পরিবর্তন এবং ভারসাম্যের বিপরীতে তাদের গতিবিধি ও আন্তঃসম্পর্ক বিবেচনা করা হয়।

সামষ্টিক অর্থনীতি কাকে বলে ?

 ‘সামষ্টিক’ শব্দটি এসেছে সমষ্টি থেকে। এখানে সমষ্টি বলতে সমাজ বা রাষ্ট্রকে বুঝায়।

অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের (সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইত্যাদি) ভূমিকা কি বা সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইত্যাদি কিভাবে অংশ নেয় বা কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয় সামষ্টিক অর্থনীতি বা Macroeconomics এ। সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের যোগফল (The sum of all economic activities), প্রবৃদ্ধি (growth), মুদ্রাষ্ফীতি (Inflation) ও বেকার সমস্যা বিষয়ক তত্বাবধান (Supervision of unemployment issues) এবং এইসব বিষয়ে সম্পর্কযুক্ত জাতীয় অর্থনৈতিক নীতিসমুহ নিয়ে আলোচনা করে Macroeconomics এবং ইহা সরকারী কার্যক্রম (যেমন, কর স্তর পরিবর্তন)কে প্রভাবিত করে।

বেশির ভাগ আধুনিক সামষ্টিক অর্থনীতি তত্ত্বসমুহ ব্যষ্টিক অবকাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত।

 

সামষ্টিক অর্থনীতির সংজ্ঞাঃ

 

সামষ্টিক অর্থনীতি

সামষ্টিক অর্থনীতি

সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics) হচ্ছে অর্থনীতির একটি শাখা যা জাতীয় বা আঞ্চলিক অর্থনীতির সামগ্রিক কর্মদক্ষতা, কাঠামো ও আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। এটি  পুরো অর্থনৈতিক কর্মকান্ড (Economic activities) বোঝার জন্য জিডিপি, বেকারত্বের হার ও মূল্য সুচকের মত সামগ্রিক নির্দেশক নিয়ে আলোচনা করে।

সামষ্টিক অর্থনীতিবিদগণ মডেল উন্নয়ন করে থাকেন যা কিছু উপাদানের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে, যেমন জাতীয় আয় (National income), উৎপাদন (production), ভোগ (consumption), বেকারত্ব (unemployment), মুদ্রাস্ফীতি (inflation), সঞ্চয় (saving), বিনিয়োগ (investment), আন্তর্জাতিক বাণিজ্য (international trade) এবং আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থা (International financial system)।

অন্য দিকে, ব্যস্টিক অর্থনীতি একক উপাদানের কর্মকান্ডের উপর প্রাথমিক আলোকপাত করে যেমন, ফার্ম ও ভোক্তা এবং তাদের আচরণ নির্দিষ্ট বাজারে দাম ও পরিমাণ কিভাবে নির্ধারন করে তা নিয়ে আলোচনা করে।

Macroeconomics একটি বিশাল শিক্ষাক্ষেত্র, এখানে গবেষণার দুইটি দিক রয়েছে: জাতীয় আয়ে (বানিজ্য চক্র) স্বল্পকালীন স্থানান্তরের কারণ ও প্রভাব এবং দীর্ঘকালীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জাতীয় আয় বৃদ্ধি) নির্ধারনের চেষ্টা করা। সামষ্টিক অর্থনীতি মডেল (Macroeconomic model) ও তাদের প্রভাব সরকার ও বৃহৎ সংস্থা উভয়েরই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবসা পরিস্থিতি মুল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত হয়।

Macroeconomics অর্থনীতির নিয়ামকসমূহকে সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে।  সামগ্রিক বলতে জাতীয় আয়  ও জাতীয় উৎপাদন, বেকারত্বের হার ও মূদ্রাষ্ফীতিকে এবং আংশিক সামগ্রিক মোট ভোগ, বিনিয়োগ ব্যয় ও তাদের উপাদানকে বুঝায়।

জিডিপি, জিএনপি, জিএনাই, সুদের হার, আর্থিক নীতি ও রাজস্ব নীতিকেও ইহা অধ্যয়ন করে। ১৯৬০ সাল থেকে সামষ্টিক অর্থনীতি আরও অনেক ক্ষেত্রে তার বিশ্লেষণ বৃদ্ধি করে যেমন, বিভিন্ন খাতের ব্যষ্টিকভিত্তিক মডেল, ভোক্তার যৌক্তিকতা, বাজার তথ্যের সঠিক ব্যবহার, অসম্পূর্ণ প্রতিযোগিতা।

এছাড়াও Macroeconomics বিবেচনাধীন উপাদানসমূহের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং একটি দেশের ও দেশের অভ্যন্তরে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি নিয়েও বিশ্লেষণ করে। উপাদানসমূহের মধ্যে মূলধন (Capital), প্রযুক্তি (Technology) ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি (population growth) উল্লেখযোগ্য।